Breaking News

আবার যেই সেই ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী’

লকডাউন ও সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে  বরগুনার বেতাগী-কচুয়া খেয়াঘাটে বিষখালী নদী পারাপারে পাঁচ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এছাড়াও যাত্রী হয়রানি, যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচারণ, করোনার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অদক্ষ চালক, অপর্যাপ্ত ও ত্রুটিযুক্ত ট্রলার দিয়ে নদী পারাপারসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছে যাত্রীরা। যাত্রী পারাপারে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইজারাদার সরকারের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো খেয়া পরিচালনা করছেন। খেয়া পারাপারের জন্য যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে টোল আদায়কারীরা খারাপ ব্যবহার করছেন এবং লাঞ্ছিত করছেন। ঘাট ইজারাদার রুস্তুম আলী হাওলাদার ও নুরুল হক কচুয়ার স্থানীয় লোক হওয়ায় যাত্রীদের জিম্মি করে বিষখালী নদীর কচুয়ার পাড় থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। প্রতিদিন ভাড়া আদায় নিয়ে আদায়কারীরা সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটছে।

 

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে বরগুনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাহিদ মাহমুদ লিটু গত ৪ আগস্ট ২০২০ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীনের নিকট লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন। এছাড়া একাধিক ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারণকৃত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া এবং এনিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার জন্য প্রতিকার দাবি করেছেন।

 

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ যাত্রী পারাপারে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পাঁচ টাকার পরিবর্তে বর্তমানে ঈদের সময় ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

সরকার কর্তৃক ভাড়া নির্ধারণ করা থাকলেও তা মানছে না আদায়কারীরা। লকডাউন ও ঈদের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল পারাপারে ১০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা, বাইসাইকেল ১০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া পাঁচ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা, আসবাবপত্র ১০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা ও হালকা যানবাহনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়।

 

ভোর ৫ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পারাপারের নিয়ম, কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার পরেই ওই বিষখালী নদী থেকে পার হতে চাইলে তাঁর কাছ থেকে রিজার্ভ ৬০০-১০০০ টাকা আদায় করা হয়।

একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমানে করোনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে মাত্র দুটি ঝুঁকিপূর্ণ বাহন দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার যাত্রী পারাপার করে। এতে বেশির ভাগ সময় চাকরিজীবী অফিসে আসতে বিলম্ব হচ্ছে। এতেও ভোগান্তি ও হয়রানি বাড়ছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টোল আদায়কারী মো. রুস্তুম আলী জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেওয়া হয় এবং অনেকে ভাড়াও দেয় না। মোটরসাইকেলে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আদায়ের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

 

শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহমুদ হোসেন রিপন জানান, বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিকারের জন্য উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি করেছি।

 

বেতাগী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করলেও দুই এক দিনের মধ্যে যেই সেই অবস্থা হয়ে যায়। ভাড়া আদায়কারীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে নিয়মিত খেয়া পারাপারের একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টে পরিচালনা করে জরিমানা দিলেও, ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী।’

 

কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি শুনেছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার করোনা পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি হচ্ছে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বুধবার সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ওই উপজেলার গত ২৪ ঘণ্টার ফলাফলে ৩৭ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এ অবস্থায় উপজেলার ৫৫৮টি মসজিদের ইমামদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

 

বুধবার দুপুরে কসবার টি আলী কলেজ মাঠ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভিডিও কনফারেন্সে ইমামদের সঙ্গে মন্ত্রী মতবিনিময় করেন। এ সময় মন্ত্রী করোনা সচেতনতায় ইমামদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় যেন সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয় সে বিষয়ে ইমামদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। এ সময় ইমামরা সরকারিভাবে তাঁদের বেতন-ভাতার দাবি তোলেন। মন্ত্রী জানান তাঁদের এ দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উত্থাপন করা হবে।

 

মতবিনিয়ম সভায় কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়ার জীবন, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ-উল আলম, কসবা পৌরসভার মেয়র মো. এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) হাসিবা খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এম জি হাক্কানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ইমামসহ উপস্থিত লোকজনকে এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসানো হয়।

About admin

Check Also

র‍্যাবের অভিযানে প্রায় ৫০০ দালালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ

সারা দেশে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়, পাসপোর্ট অফিস ও হাসপাতালে দালালদের ধরতে একযোগে অভিযান …

Leave a Reply

Your email address will not be published.