Breaking News

গরিবের চালে দুর্গন্ধ-পোকা!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় গরিবদের মাঝে দুর্গন্ধ ও পোকা ভরা চাল বিতরণ করা হচ্ছে। বুধবার (৭ জুলাই) দুপুরে রায়পুর পৌরসভা কার্যালয়ে দুর্গন্ধযুক্ত চালসহ খাদ্যসামগ্রী অসহায় শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে বিতরণ করা হয়। ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার’ হিসেবে করোনাকালে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্বোধন করা হয়।

 

পৌরসভা কার্যালয় সূত্র জানায়, করোনার কারণে জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়পুর পৌরসভায় সাড়ে ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেন। এ ছাড়া দুই লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। এসব বরাদ্দ ৬০০ অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। এর মধ্য ১০ কেজি চাল এক কেজি করে ডাল, তেল, চিনি, মুড়ি রয়েছে।

 

নতুন বাজার এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী বিউটি আক্তার ও নাজমা বেগম জানান, বিতরণ করা চাল দুর্গন্ধ আর পোকায় ভরা। তারা হাঁস-মুরগিকেও আরো ভালো চাল খাবাব হিসেবে দেন। লকডাউন আর বৃষ্টির মধ্যে পচা চাল নিতে এসে তাদের কষ্ট হয়েছে।

 

চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাটের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর ২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। বিশেষ অতিথি ছিলেন রায়পুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার ও সদর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী প্রমুখ।

 

উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. মহসিন এ ব্যাপারে বলেন, পৌরসভায় সরবরাহ করা চালগুলো একবছর আগের। এ জন্য পোকা-দুর্গন্ধ হতে পারে। মেয়র বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ওসিএলএসডি মহসিন বিভিন্ন প্রকল্পের চাল কম দামে তাদের কাছ থেকে কিনে রাখেন। পরে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ শুরু হলে তিনি বেশি দামে ওই চালগুলো ক্রয় দেখান। তিনি নিজের পকেট ভারি করতে কৌশল নেন।

 

চালের বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, বরাদ্দের অর্ধেক প্যাকেট করার পর আমি জেনেছি, চালে দুর্গন্ধ। বিষয়টি আমি ওসিএলএসডিকে জানিয়েছি।

 

 

 

 

নিজের সম্পত্তি বলে কিছুই ছিল না মোকছেদ আলীর। অন্যের জায়গায় ঘর তুলে থাকতেন। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়েই তাঁর সংসার। গ্রামীণ সড়কে চালাতেন রিকশা। তাও ভাড়া নিয়ে। এভাবে প্রতিদিন রিকশা চালিয়েই যে টাকা আয় হয় তা দিয়েই সংসারের সব খরচ মেটাতেন তিনি। স্বপ্ন ছিল একদিন বাড়ির জন্য জমি কিনবেন। সেখানে ঘর তুলবেন। মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই হবে। ছেলেদের স্কুলে পড়ালেখা শিখিয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সবাইকে নিয়ে গড়বেন সুখের সংসার। কিন্তু স্বল্প আয়ে সবার খরচ মিটিয়ে সেই স্বপ্ন ধরা দিচ্ছিল না কিছুতেই। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের জমি ও ঘর পেয়ে তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিয়েছে।

 

গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারদের জন্য করা প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়েছেন মোকছেদ আলী। সেই স্থায়ী ঠিকানায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ওঠেন। শুরু করেন নতুন সংসার। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে দুই দিনের বৃষ্টিতেই তার বাড়িটির একাংশ ধসে খালে পড়েছে। এ ছাড়া বাড়িটির বাকি অংশও খালে ধসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পাশের ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছি। জমি-ঘর পেয়েও এখন নেই। বলা চলে আগের অবস্থায় ফিরে গেছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যেই দিনাতিপাত করছি।

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খানপুর বুরিগাড়ি খালের কিনারায় গড়ে তোলা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় জমি-ঘর পাওয়া সুবিধাভোগী মোকছেদ আলী অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে বলছিলেন এসব কথা। একইভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেক সুবিধাভোগী রহমত আলী বলেন, নতুন স্বপ্ন ছিল নতুন ঘরে উঠবো। কিন্তু পারলাম না। বর্ষা মৌসুমের অব্যাহত বৃষ্টির কারণে খালের পানি বাড়ছে। যেকোনো সময় ঘরের মধ্যে পানি উঠবে। অথবা বাড়িটির নিচের অংশের মাটি খালে ধসে পড়বে। তাই আতঙ্কে বাড়িটিতে থাকছি না। আগের নলবাড়িয়া খাসপাড়ার বাড়িতেই থাকছেন বলে জানান।

About admin

Check Also

র‍্যাবের অভিযানে প্রায় ৫০০ দালালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ

সারা দেশে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়, পাসপোর্ট অফিস ও হাসপাতালে দালালদের ধরতে একযোগে অভিযান …

Leave a Reply

Your email address will not be published.