Breaking News

‘তিন দিনের মধ্যে জায়গা খালি করে দিতে হবে’

‘জমি গ্রাস করার অধিকার কারো নাই। আপনারা একজন বিধবাকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদের যে চিন্তা-ভাবনা করেছেন তা অন্যায়। আইন সবার জন্য সমান। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আপনাদের খড়ের পালা-গোয়ালঘরসহ যা আছে সব সরিয়ে নিন। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে জায়গা খালি করে দিতে হবে’।

 

কথাগুলো বললেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাত মোহাম্মদ ইসতিয়াক ভূইয়া। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ধর্মপাল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড গড় ধর্মপাল (ভিতর কোর্ট) গ্রামের প্রয়াত সুশিল চন্দ্র রায়ের বিধবা স্ত্রী শুভবালার কবুলিয়ত সম্পত্তি বেদখলের অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিন তদন্তে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

 

অভিযোগে জানা যায়, শুভ বালার কবুলিয়তকৃত ৬০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী তারক চন্দ্র রায়, ভরত চন্দ্র রায়, তৈলক্ষ চন্দ্র রায়, হিরম্ব কুমার রায় ও রাধা নাথ চন্দ্র রায়ের চোখ পড়ে। তারা সেখানে পর্যায়ক্রমে খড়ের পালা-গোয়াল ঘর তৈরি করে। এমনকি তার রোপণকৃত গাছ কাটতে গেলে তারা বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখায়।

 

অভিযোগকারী শুভ বালা জানান, আমি বিধবা মানুষ। প্রায় ১৮ বছর আগে স্বামীহারা হয়েছি। একটা মেয়ে সন্তান তারও বিয়ে হয়েছে। এখন থাকার মধ্যে আছে শুধু এই ৬০ শতক জমি। সে জমিও ওরা দিন দিন গিলে খাচ্ছে। সেদিন অভিযোগ দেওয়ার কথা তাদের কানে আসলে গত পরশুদিন শনিবার রাতে তারা একযোগে ৪টি শ্মশান মন্দির তৈরি করেছে। এখন জমিটি নাকি তাদের স্থায়ী দখল হলো। তারা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে এখানে আমাকে থাকতে দেবে না।

 

এলাকাবাসী কমলা রানী, সুশীলা রানী ও স্বপ্না রানী জানান, জমি নিয়ে কথা বললেই নির্যাতন ও ভয়-ভীতি দেখানো হয় শুভবালাকে। এমনকি শুভবালা যে ভাইয়ের কাছে আশ্রিত সেই ভাইকেও এই রাস্তা দিয়ে হাটতে দেয় না তারা। শুধু তাই নয় তার লাশ ফেলারও হুমকি দেয় তারক-ভরত গং।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, আমরা এখানে কথা বললেই তাদের অত্যাচার আমাদের উপর নেমে আসবে। তবে তাদের অভিনব কৌশল এক রাতে ৪টি শ্মশান মন্দির স্থাপন। আর মজার বিষয় হচ্ছে সামনের দিক দিয়ে মৃতের আত্মার শান্তি ও পূজা আর্চনার জন্য একটু ফাঁকা রাখার নিয়ম থাকলেও তারা সেটাও করতে ভুলে গিয়েছে।

 

এ বিষয়ে ধর্মপাল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জামিনুর রহমান বলেন, বিধবার জমিটুকু দখলে নিতে তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন অব্যাহত রেখেছেন। আজ যেখানে মন্দির দেখছেন তিনদিন আগে সেখানে কিছুই ছিল না।

 

বিষয়টি নিয়ে জলঢাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাত মোহাম্মদ ইসতিয়াক ভূইয়া বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখে পূর্বের সমাধিগুলো থাকবে। আর তিন দিনের মধ্যে তারা অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গা ফাকা না করলে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।

About admin

Check Also

চালক প্রাণ দিয়েও ডাকাতদের কবল থেকে রক্ষা করতে পারলেন না বাস

গাইবান্ধা জেলার সীমানা চম্পাগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি নৈশকোচে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.