Breaking News

শিশুর সঙ্গে অনৈতিক কাণ্ড, শিক্ষক গ্রে’প্তার!

রাজধানীর ডেমরায় ১১ বছরের এক শিশুকে একাধিবার ব,লাৎকা,রের অ,ভিযো,গে মো. সুলতান ওরফে রমজান (২৮) নামে এক শিক্ষককে গ্রে,প্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তাকে অদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

বুধবার রাতে ডেমরার ওরিয়েন্টাল স্কুলসংলগ্ন গার্ডেন রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রে,প্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মোস্তাফিজের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও নোয়াখালীর কবিরহাট থানার নরসোনাপুর গ্রামের মৃ,ত নুরুল হুদার ছেলে। এ বিষয়ে ভু,ক্তভো,গীর বাবা বুধবার রাতে ডেমরা ফাঁ,ড়িতে তার বি,রুদ্ধে মামলা করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডেমরা ফাঁ,ড়ির ইনচার্জ এসআই সন্তোষ বালা বলেন, মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া আসার সময় গত এক বছর আগে হাফেজি শিক্ষক রমজানের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই শিশুর। সম্পর্কের একপর্যায়ে রমজান নানা ধরনের প্র,লোভন দেখিয়ে তাকে তার ঘরে নিয়ে ব,লাৎকার ক,রতেন। এ বিষয়ে কাউকে না বলার জন্য তাকে ভ,য় দেখানো হতো।

 

গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় ওই শিক্ষক শি,শুটিকে আ,বারও ব,লাৎকা,র করেন। পরে শি,শুটি এ ঘটনা তার বাবার কাছে বলে দেয়। এসআই সন্তোষ বালা জানান, শি,শুটিকে ১১ বার ব,লাৎকা,র করেছেন বলে জি,জ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষক স্বীকার করেছেন।

 

 

 

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখেছেন, উপজেলার খানপুর বুড়িগাড়ি এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের পেছনের মাটি পাশের খালে ধসে পড়ছে। খালটিতে বাঁশের পাইলিং করে প্রকল্পের বাড়িগুলো রক্ষার চেষ্টা চলছে। ইউএনও ময়নুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো রক্ষায় সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি গতকাল দুপুরে উপজেলার রশিদ দেওহাটা গ্রামে গিয়ে দুটি বাসগৃহে ফাটল দেখতে পেয়েছেন। উপকারভোগীরা বলছেন, দুর্যোগসহনীয় ঘর এখন নিজেই ঝুঁঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দাবি, নতুন মাটি ফেলে তড়িঘড়ি করে ঘর নির্মাণ করায় পাশাপাশি দুটি ঘরে এই ফাটল দেখা দিয়েছে।

 

বরিশাল অফিস জানায়, বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামের দুই ভাই, তাঁদের চাচা ঠাকুরপাড়া গ্রামের রশিদ ফকির এবং তাঁর দুই সন্তানসহ এক পরিবারের পাঁচজন ঘর পেয়েছেন। ওই ঠাকুরপাড়া গ্রামের ১৭ জনের নাম রয়েছে ঘর বরাদ্দের তালিকায়। তাঁদের অনেকেই বলেছেন, বরাদ্দ পেতে তাঁরা কর্মকর্তাদের ‘খুশিও’ করেছেন। ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ ঘর পেয়েছেন তালতলীর সচ্ছল চার সাংবাদিকও।

 

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে সরকারি খাসজমিতে প্রকল্পের প্রথম দফায় নির্মাণ করা হয় ৩৪টি ঘর, যা গত ২৩ জানুযারি সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম দফায় নির্মিত ঘরগুলো নির্মাণে তেমন কোনো বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নির্মিত এসব ঘরের টিনের ছাউনিতে কাঠের পরিবর্তে লোহার অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করা হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় ৬০টি ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘরের দেয়ালে ও বারান্দার পিলারে ফাটল ধরেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পড়ছে বৃষ্টির পানি। গ্রিলের দরজা-জানাজার পাল্লাগুলো খুলে পড়ছে। বেশির ভাগ ঘরেরই গ্রিলের দরজা-জানালা ঠিকভাবে আটকানো যায় না।

 

মাঠ প্রশাসনে আতঙ্ক : গত কয়েক দিনে পাঁচ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে সারা দেশের ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের সাবেক ইউএনও বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত উপসচিব শফিকুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ সদরের সাবেক ইউএনও বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত হাসান শিপলু, বগুড়ার শেরপুরের সাবেক ইউএনও বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লিয়াকত আলী সেখ, বরগুনার আমতলীর ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান ও মুন্সীগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মেজবাহ-উল-সাবেরিনকে ওএসডি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উপসচিব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে আমতলীর ইউএনওকে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮০ জন ভূমিহীন ও ঘরহীন পরিবারকে দুই কক্ষের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বর্ষা শুরুর পর কিছু এলাকায় ঘর ভেঙে যাওয়া ও ফাটলের ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। কর্মকর্তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে তালিকা অনুযায়ী ঘর না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় সরকারের ত্বরিত উদ্যোগে সারা দেশের ইউএনও, এসি ল্যান্ডদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘর করার জন্য গঠিত কমিটিতে ইউএনওর সভাপতিত্বে সদস্য হিসেবে আছেন উপজেলা প্রকৌশলী, এসি ল্যান্ড, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। ওএসডি হওয়া ও বর্তমানে দায়িত্বে থাকা একাধিক ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করে আতঙ্কের কথা জানা গেছে।

 

একজন ভুক্তভোগী সাবেক ইউএনও এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের দু-এক জায়গায় দুর্নীতি হলেও হতে পারে। কিন্তু যেভাবে সামান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠছে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে কোনো ইউএনওই রেহাই পাবেন না। এ কারণেই মাঠ প্রশাসনের মধ্যে ভয় কাজ করছে। যুক্তি হিসেবে তাঁরা বলছেন, এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছু নির্মাণ ও তালিকাসংক্রান্ত ত্রুটি হবেই।

 

ইউএনওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিষয়টি সচিবালয়েও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এত সুন্দর একটি ঘর করতে মাত্র এক লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এত কম টাকায় কিভাবে এমন ঘর হয় আমার বুঝে আসে না।’ বাগেরহাটের একজন ইউএনও বলেন, ‘এক জায়গায় অনেকগুলো ঘর করলে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন খরচ অনেকটা সহনীয় থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একেক গ্রামে একেকটি ঘর করে দিতে হচ্ছে। তাই এই টাকা দিয়ে কার্যত সম্ভব না। এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘরের দাম বাড়িয়ে এখন এক লাখ ৯০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে ঘরের আয়তনও একটু বাড়ানো হয়েছে।’

 

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, কমিটিতে শুধু ইউএনওরা ছিলেন না। বাকিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ইউএনওরা উপজেলার সার্বিক দায়িত্বে থেকেও এই করোনার সময় বহুমুখী কাজ করেও ঘর নির্মাণকাজ তদারকি করেছেন। অন্যদিকে কমিটিতে থাকা প্রকৌশলী, পিআইওরা এখানে কিছু ‘পাওয়ার’ আশা নেই জেনে অনেক ক্ষেত্রে কোনো সহযোগিতাই করেননি। কারণ তাঁদের হাতে কোটি কোটি টাকার অন্য কাজ থাকে।

About admin

Check Also

চালক প্রাণ দিয়েও ডাকাতদের কবল থেকে রক্ষা করতে পারলেন না বাস

গাইবান্ধা জেলার সীমানা চম্পাগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি নৈশকোচে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.