Breaking News

সব মানুষই পাবে পেনশন বয়স ৬০ বছর পার হলেই শুরু

এত দিন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেনশন পেয়ে এলেও এবার সারা দেশের সব মানুষই পাবে পেনশনের সুবিধা। জাতীয় পরিচয়পত্রে দেওয়া বয়স অনুযায়ী ৬০ বছর পার হওয়ার পরই মিলবে পেনশন। তবে যিনি পেনশন পেতে চান, তাঁকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা অন্তত ১০ বছর জমা রাখতে হবে। এমন বিধি-বিধান রেখে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন-২০২২’-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বৈঠকের বিষয় নিয়ে ব্রিফ করেন।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, খসড়া আইন অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রকে (এনআইডি) ভিত্তি ধরে ১৮ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সী সবাই এই ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারবেন (সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বাদে)। প্রবাসী কর্মীরাও এটাতে চাঁদা দিয়ে অংশ নিতে পারবেন। কমপক্ষে ১০ বছর প্রিমিয়াম দিতে হবে। ৬০ বছর থেকে যত দিন জীবিত থাকবেন, তত দিন পেনশন পাবেন। প্রিমিয়াম কত হবে তা বিধি করে নির্ধারণ করা হবে। পেনশনে থাকাকালীন কেউ মারা গেলে নমিনি ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশনের সুবিধা ভোগ করবেন।

 

১৮ বছর থেকে প্রিমিয়াম দেবেন, যদি সরকারি চাকরি হয়ে যায় তখন কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, যাঁর সরকারি চাকরি হয়ে যাবে তাঁর জমানো টাকা বেনিফিটসহ ফেরত দেওয়া হবে।

 

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, সরকার জনগণের বেকারত্ব, ব্যাধি, পঙ্গুত্ব, বার্ধক্যজনিত কারণে অভাবগ্রস্ততা এবং দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি পেনশন এবং সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে আনার জন্য অর্থ বিভাগ থেকে এই খসড়া আইন উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যে ব্যক্তি ১৮ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত প্রিমিয়াম দেবেন তাঁর পেমেন্টে এক রকম হবে, যে ৪০ বছর পর্যন্ত দেবেন তাঁরটা এক রকম হবে। প্রিমিয়ামের একাধিক স্তর (লেয়ার) থাকতে পারে। যে বেশি স্কেলের প্রিমিয়াম দেবেন তাঁর পেনশন বেশি হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পেনশনারদের কেউ যদি ৬২ বছরে মারা যান তাহলে ১৩ বছর, অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির ৭৫ বছর পর্যন্ত নমিনি পেনশনের সুবিধা পাবেন। পেনশনপ্রাপ্ত ব্যক্তি যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন তিনি পেনশনের টাকা পাবেন।

 

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে চারজন সদস্য নিয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে এবং অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। প্রিমিয়ামের পরিমাণ কী রকম হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনের মধ্যে প্রিমিয়াম মেনশন করা হবে না। বিধি দিয়ে নির্ধারণ করা হবে। যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। কারণ আজকে দুই হাজার টাকা ঠিক করা হলো, ২০ বছর পর দুই হাজার টাকার তো ভ্যালু থাকবে না।

 

যাদের প্রিমিয়াম দেওয়ার সামর্থ্য নেই তারা কি এই পেনশনের সুবিধা পাবে না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘আছে। সেটা রুলের মধ্যে থাকবে। ধরেন, সেফটিনেট প্রগ্রামের মাধ্যমে যাদের হেল্প করা হয়, ওটা থেকে রুলের মধ্যে নিয়ে আসা হবে।

 

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, খসড়া আইনটি এখন আইন বিভাগ দেখবে। যাচাই করে ঠিক আছে বললে, সেটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে।

About admin

Check Also

এক লিটার সয়াবিন তেল এখন ১৫৩ টাকা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সয়াবিন তেলের দামে গত জুন মাসে দেওয়া লিটারপ্রতি চার টাকা ছাড় তুলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.